Thursday, September 8, 2022

জীবন যেখানে যেমন

 


জকে ০৯সেপ্টেম্বর ২০২২ অন্যান্য মাসের মতই এই মাসে বেতনের পরবর্তী শুক্রবার মাসিক বাজারের উদ্দেশ্যে বাজারে গিয়েছিলাম আজকে বাজারে গিয়ে দেখলাম দ্রব্য মূল্যের যে উর্ধ্বগতি হয়েছে তাতে আমাদের মত মধ্যবিত্তদের বাজার করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হবে কিন্তু কি আর করার বাজার তো করতেই হবে,তাই চিন্তাভাবনা না করে বাজার করা শুরু করলাম সবশেষে হিসেব কষে দেখি গত মাসের থেকে ১৫০০ টাকা বেশি লেগেছে বাজারে কিন্তু আমার জিনিস এবং পরিমাণ কিন্তু প্রায় গত মাসের মতোই ছিল সুতরাং বুঝতে হবে বাজারে দ্রব্যমূল্যের কতটাই না ঊর্ধ্বগতি হয়েছে ।যাই হোক বাজার শেষ করে একটা রিক্সাওয়ালাকে ডাক দিলাম কিন্তু দেখলাম রিক্সা চালক অল্পবয়স্ক(১৩-১৪ বছর) করে একটা ছেলে ।দেখে আমার নিজের কাছেই খারাপ লাগলো যে এইটুকু একটা ছেলে রিকশা চালাবে আর আমি পেছনে বসে থাকবো, আমি বললাম ভাই তুমি পারবে না ছেলেটা বলল "স্যার আমি পারবো দয়া করে আমার রিকশায় উডেন আপনি দেহেন আমি আপনারে পঙ্খিরাজের মত ল্ইয়া যামু" কথা শুনে একটু মুচকি হাসি ও পেল আমিও চিন্তা করলাম আমরা যদি ওর রিক্সায় না যাই তাহলে ও বা কিভাবে উপার্জন করবে । যা হোক তারপর আমি ও রিক্সায় বাজারগুলো তুলে উঠে পড়লাম ছেলেটা তার রিক্সা চালানো শুরু করলো। খেয়াল করলাম ছেলেটা বেশ চেষ্টা করতেছিল জোরেশোরেই রিক্সাটা চালানোর জন্য কিন্তু আমারও বেশ বাজার থাকার কারণে এবং উল্টা রাস্তা থেকে আসার কারণে বাতাসে ও রিক্সার গতি অনেকটাই কমিয়ে দিচ্ছিল। কিন্তু ছেলেটা বেশ চেষ্টা করেই যাচ্ছিল চেষ্টা করতে করতে হাঁপিয়ে গেছে। তারপর আমি বললাম ভাই তোমার এত জোরে তাড়াহুড়ো করে যাওয়া লাগবে না আস্তে আস্তে যাও তুমি একটু বিশ্রাম নিয়ে পানি খাও তারপরে আমরা আস্তে আস্তে বাসার উদ্দেশ্যে যাবো। ছেলেটা রাস্তার পাশে রিক্সাটা সাইট করে পাশে টঙের দোকান থেকে এক গ্লাস পানি খেয়ে বেশ মুচকি একটা হাসি দিল তারপর বলল"লন‌ স্যার ওহন আবার শক্তি পামু" এরপর ছেলেটা আবার তার রিক্সার প্যাডেল মারা শুরু করলো যেতে যেতে আমি জিজ্ঞাসা করলাম ভাই তুমি রিক্সা কেন চালাও তোমার তো এখন স্কুলে যাওয়ার সময় ছেলেটা আমাকে উত্তর দিল " কি করমু স্যার বড় ভাই পাগল বাবা মা সহ বড় ভাইরে তো আমারই চালাইতে হইবো" আমি নির্বাক হয়ে থাকলাম কি বলবো আসলে সবই পরিস্থিতির শিকার যে বয়সে ওর হাতে বই খাতা কলম থাকার কথা ছিল সেই বয়সে ছেলেটা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অর্থ উপার্জন করছে ।জীবন এবং জীবিকা দুটোই বুঝে ফেলেছে। পুরো রাস্তাটা আমি ছেলেটার কথা শুনে খুব খারাপ লাগলো কারণ আমার ওর মত একটা ভাইপো আছে ওর থেকে ২-৩ বছরের ছোট হবে আজ যদি ওর জায়গায় আমার কলিজার টুকরা ভাইপোটা থাকতো তাহলে কত খারাপটাই না লাগতো ☹️☹️। ভাবতে ভাবতে হঠাৎ ছেলেটা বলল "স্যার আর কত দূর?" তখন ও প্রায় আমার বাসার কাছেই ছিল তারপর আমাকে বাসায় নামানোর পরে যখন ওকে ওর পাওনাটা দিয়ে দিলাম তখন ওর যে একটা হাসি 😍ছিল যেটা দেখে কলিজা ঠান্ডা আমি বললাম ভাই রুমে আসো কিছু খেয়ে পানি খেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে পরে আবার তোমার কাজে ফিরো। আমাকে বলল "স্যার আমি বসে থাকলে কি আমার ইনকাম হইবো? আমি বসে থাকলে কি কেউ আমার পরিবারকে দেখবে?" ছেলেটার প্রশ্নের কোন উত্তরই আমার জানা ছিল না।
পরিশেষে বলা যায় যে দায়িত্ব যখন কাঁদে পরে তখন বয়সটা ভুলে যাই কারণ ওর এখন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয় খেলাধুলা করার সময় ছিল কিন্তু কিন্তু ওর কাঁধে দায়িত্ব পড়ে কিভাবে একটু বেশি ইনকাম করতে পারবে সেই চিন্তায় মগ্ন।
সর্বশেষ আমি একটা কথাই বলতে চাই "জীবন যেখানে যেমন" 😦
 Writer -Ahaduzzaman

This is not a story, this incident happened to me today morning😑

0 Comments:

Post a Comment

Subscribe to Post Comments [Atom]

<< Home